19 July- 2019 ।। ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ।। সন্ধ্যা ৭:১২

চৌদ্দগ্রাম ও সংবাদ কর্মী : গোপন সখ্যতা থাকলেও নেই প্রকাশ্য ঐক্য !!

হাসান মুহাঃ জহির :

‘ভোগে নয়, ত্যাগেই আনন্দ’ এমন প্রবাদকেই জীবনের সঙ্গে মানানসই করে নেওয়া একটি মহৎ পেশায় কর্মরত কর্মীরাই সংবাদকর্মী। নিজেকে বা পাশের মানুষগুলোকে ঈদের আনন্দ দিতে সংবাদে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি বিনোদনে অন্য সকলের মত পিছিয়ে নেই চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত সংবাদকর্মীরা। ত্রিধারায়-ত্রিমাত্রায় উপজেলার বিভিন্ন স্তরে প্রায় অর্ধশতাধীক সংবাদকর্মীদের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেখা গেলেও অন্য পেশার চিত্র বরাবর-ই ভিন্ন।

সদ্য গত হওয়া ঈদুল ফিতর-২০১৯ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বেশ কয়েকটি ছবি ও পোষ্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাবিসাস’র সভাপতি ও সাপ্তাহিক চৌদ্দগ্রাম সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক আবুল হোসেন মজুমদারের নেতৃত্বে চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের ব্যানারে মীর শাহ আলম, মাহবুবুর রহমান মিয়াজি, মুজিবুর রহমান বাবলু, আব্দুল জলিল রিপন,আব্দুল মন্নান,আক্তারুজ্জমান,আবুল বশার রানা সহ বেশ কয়েকজন সম্পাদক ও সংবাদকর্মীরা চৌদ্দগ্রামের একটি রেস্টুরেন্টে ঈদ পূণর্মিলনী করে।

অন্য একটি ছবিতে “সাপ্তাহিক চৌদ্দগ্রাম” পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং দৈনিক নয়া দিগন্ত’র চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজীর নেতৃত্বে সাপ্তাহিক চৌদ্দগ্রাম পাঠক ফোরামের ব্যানারে মোঃ এমদাদ উল্যাহ্, মাস্টার আব্দুল কাদের, শাহিন আলম, জাকির হোসেন, মাঈন উদ্দীন মাসুদ,আনিসুর রহমান, মিজানুর রহমান মিনু সহ বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী ও পাঠকবৃন্দকে নিয়ে আনন্দ ভ্রমণ করতে দেখা যায়।

আরো একটি ব্যানার বিহীন ছবিতে “দি ডেইলি স্টারের হেড অব বুকস, কালের ধ্বনী’র সম্পাদক ও প্রকাশক ইমরান মাহফুজের নেতৃত্বে প্রতিবছরের ন্যায় এবার ও ‘গল্প ও আড্ডায়’ মেতে উঠেন মোশাররফ হোসেন, এমদাদ উল্যাহ্, হাসান মুহাঃ জহির, বেলাল হোসাইন, ইস্রাফিল মোল্লা, রবি মজুমদার, এমএ আলম সহ কবি-সাহিত্যিক, সম্পাদক ও বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী। এই আড্ডায় ছিল সকলের আমন্ত্রণ। জানা যায়, এই গল্প ও আড্ডায় সকলের জন্য উম্মুক্ত থাকলেও বাকী দুটি মিলনমেলা ছিল সংরক্ষিত ও বেশ সীমাবদ্ধতা।

একই ব্যানারের নিছে চৌদ্দগ্রামের সকল সংবাদকর্মী !! গত দশ বছরে চৌদ্দগ্রামের সাধারণ মানুষ যা দেখেনি এবারের ঈদে তা দেখবে এমন ভাবনা ও এখন আর কেউ ভাবেনা। দীর্ঘ সময় থেকে এমন পরিস্থিতি দেখে আসা সচেতন মহল চৌদ্দগ্রামে কর্মরত সংবাদকর্মীদের পরিবেশিত সংবাদের ভাষা ও চিত্র দেখে অনুমান করে নিয়েছে এখানকার সংবাদকর্মীদের মাঝে অদৃশ্য কারণে গোপন সখ্যতা থাকলেও প্রকাশ্য ঐক্য নেই। কেন গোপন সখ্যতা থাকলেও প্রকাশ্য ঐক্য নেই এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলসহ অনেকরই মনে।
কেউ কেউ মনে করছে কিছু সুবিধাভূগীরা নিজের স্বার্থে প্রকাশ্যে দল-বিরোধী দলের ইস্যু তৈরী করে নেতার নিকট ভাল সাজে। আবার গোপনে সাখ্যতা ঠিকই বজায় রাখছে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একে অপরের বন্ধু তালিকা। তাছাড়া গোপনে মোবাইল সহ ইনবক্সে (মেসেন্জার) ও ই-মেইলে একে অপরের মধ্যে তথ্য ও কৌশল আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

আবার কেউ কেউ নিজের অবস্থানে থোকে স্থানীয় প্রভাব, পেশীশক্তি, রাজনীতিকে ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ধাপটে শারীরিক নির্যাতন, প্রশাসনিক হয়রানি, নব্য আগত ও চোট মিডিয়ায় কাজ বলে তুচ্ছতাচ্ছল্য করে দমিয়ে রাখার চেষ্টা। এসব সকলের মাঝে আছে এমন নয়,তবে আত্ম অহংকার,কুৎসিত ও দলকানা মানসিকতা, হিংসা-বিদ্বেষ,অপরকে হেয় করার ঘৃণ্য মানসিকতা,অতিমাত্রায় অর্থ লোভ এসব পরিহার না করতে পারলে আমরা নিজেরা নিজেকে স্বঘোষিত সাংবাদিক নেতা বা অনেক বড় সাংবাদিক ভাবতে পারি,তবে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য বা সম্মানের পাত্র নই।

উদার মানসিকতার প্রচন্ড অভাবসহ নানান কারণে আজ দেশ ও জাতির বিবেক খ্যাত চৌদ্দগ্রামের সংবাদকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের বড়ই অভাব। যেখানে দেশের বেশীরভাগ উপজেলার সংবাদকর্মীদের আন্তরিকতায় বিভিন্ন সভা-সেমিনার, ঘঠনার স্থল বা চায়ের আড্ডায় প্রাণ চাঞ্চল্যে মুখরিত এবং সাংবাদিকদের মাঝে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান। সেখানে আমরা পিছিয়ে আছি কয়েকগুণ!!
নিজেদের পেশাগত সম্মানের কথা চিন্তা করে হলেও এসব পরিহার করা জরুরি।
একজন অপরজনের পেছনে না লেগে, সম্পর্ক উন্নয়নে আরো গতিশীল হওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিগত স্বার্থ ও হিংসা-বিদ্বেষ পদদলিত করে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এর শক্ত ভিতের মাধ্যমেই টিকে থাকুক আমাদের সম্পর্কগুলো এই প্রত্যাশায় আমি হাসান মুহাঃ জহির, সম্পাদক ও প্রকাশক বিজয় বিডি ২৪ ডট কম।।

 

আপডেট নিউজ ডটকম / বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯, ২৭ আষাঢ় ১৪২৬

 

আপডেট নিউজ ডটকম এর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন...



More News Of This Category


Archives

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
    123
11121314151617
18192021222324
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031